মেনু নির্বাচন করুন

দর্শনীয় স্থান

সুনামগঞ্জ জেলা থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে দূরবর্তী সিলেট- সুনামগঞ্জ মহা সড়কের পাশ ঘেষে অবস্থিত, সবুজের ছায়ায় পরিবেষ্টিত একটি গ্রাম যার নাম পাগলা। আপন ঐতিহ্যের গাড়িমায় উদ্ধাসিত এই শ্যামল গ্রাম চারদিকে সবুজের সমারোহ, দখিনা সামীরনে খেলা করে অতল পয়োদির জলের উর্মির মতন । দেশের সবচেয়ে সুদীর্ঘ নদী সুরমার অন্যতম শাখা মহাসিং এর তীরে অবস্তিত এই গ্রাম সোনালী ধান, নদীর কলতান, সবুজের আনাগোনা- সব মিলিয়ে স্রষ্টাই এই জীবন্ত ছবির কর্মকার। পৃথিবীর বুকে যেন আরেকটি নতুন পৃথিবী। এই সব ঐতিহ্যকে আরো ঐতিহ্যবাহী করে তুলেছে ঐতিহাসিক ‘’ পাগলা বড় জামে মসজিদ’’। এই মসজিদটি শুধু পাগলারই নয় বৃহত্তর সুনামগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক স্থান। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই মসজিদ। স্থানীয় এলাকাবাসির শোনা যে, পাগলা রায়পুর মহাজন বাড়ির ইয়াসিন মির্জা তৎকালীন সময়ের মহাজন ছিলেন। ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে অনেক সময় ভারতের কলকাতার সহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর আসা যাওয়া ছিল। বিভিন্ন দেশের স্থাপত্যশৈলী দেখে(কলকাতা,দিল্লী ) এ ধরনের একটি মসজিদ নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করেন ইয়াসিন মির্জা। ঊনিশ শতকের প্রথম পর্যায়ে, বর্তমান দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা রায়পুরের মহাজন ইয়াসিন মির্জা ঐতিহাসিক এই মসজিদটি নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহন করেন। তাঁর একক উদ্যোগেই গড়ে উঠে পাগলার ঐতিহাসিক’’ পাগলা বড় জামে মসজিদ’’। একটানা দীর্ঘ ১০ বছরের বেশী সময় নির্মাণ কাজ করা হয়। মসজিদ নির্মানের জন্য প্রধান প্রকৌশলী আনা হয় অভিবক্ত ভারত থেকে। প্রধান মেস্তরী ও যোগালুরা আসেন কলকাতা  আর দীল্লি থেকে। যদিও প্রধান উদ্যোগী মির্জা সাহেব, তাঁদের পাশাপাশি মসজিদ নির্মাণ করার জন্য এলাকার লোকজনের সহায়ক ভূমিকা অপরিসীম। স্থানীয় লোকজন ঐতিহাসিক এই মসজিদকে রায়পুর বড় জামে মসজিদ’ নামে চিনেন, জানেন। পাগলা বাজারস্ত মহাসিং নদীর তীরে রায়পুর নামক স্থানে নিজের পৈত্রিক স্থানে মসজিদটি নির্মাণ করেন ইয়াসিন মির্জা। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর দ্বীতল বিশিষ্ট এই মসজিদের রয়েছে বিশাল বড় বড় ৩ টি গম্বুজ। বিরাটাকার এই গম্বুজ গুলো একদিকে যেমন সবাইকে আশ্চর্যান্বিকরে, অন্যদিকে খুব সহজেই একজন দর্শনার্থীকে আকর্ষন করে। অতিসহজেই এই মসজিদের গঠনশৈলী সবার মনে স্থান করে নেয়। অনুমানিক ১বিঘা জমির উপর নির্মিতব্য এই মসজিদের আয়তন  হচ্ছে দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিটার প্রায়। মসজিদের সামনে রয়েছে বৃহাতাকার একটি মাঠ। মসজিদের নদী প্রান্তে সুপারি, নারিকেল ও খেজুর গাছ মসজিদ দর্শনার্থীর হৃদয় পটে স্থান খুঁজে। শুধু তাই নয়, মহাসিং নদী থেকে ভেসে আসা কলকল ধ্বনি এবং পবিত্র হাওয়া যেন সৃষ্টি কর্তার করুনায় কথা স্বরন করিয়ে দেয়। যায় নিজে না দেখলে কখনো উপলদ্ধি করার নয়।